Posts

Showing posts with the label বাঙালি

মহালয়া

মহালয়ার দিন ভোরবেলা উঠতাম। আগেরদিন থেকেই মনে মনে একটা উত্তেজনা কাজ করতো। এই তো কাল মহালয়া, তারপরেই স্কুলে পুজোর ছুটি পড়ে যাবে। একমাস ছুটি কি আনন্দ। পরীক্ষার আগে ভোরবেলা উঠে লেপ মুড়ি দিয়ে পড়তে বসেছি দু-একবার। আলাদা করে ভোরের আকাশ কখনো দেখা হতো না, মহালয়ার দিন ছাড়া। আবির ছড়ানো ভোরের আকাশ। হালকা শীত শীত ভাব। টিনের চালে শিশির পড়ার টুপটাপ আওয়াজ। শব্দ বলতে বীরেন্দ্র কৃষ্ণের গলা। একদম ছোটবেলায় বাবা রেডিও চালিয়ে দিয়ে তুলে দিতো। গান আর কথাগুলোর মানে কিছু না বুঝলেও শোনাটা যেন একটা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। শুধু তাই নয় মহালয়াটা এতোটাই পরিচিত যে ঘুম ভাঙার পর বলে দিতে পারতাম সবে শুরু, নাকি আরও অনেক বাকি। ভোরের হালকা আলোয় শুনতে ভালোও লাগতো। পরদিন সকালে চায়ের আসরে - কে কখন উঠেছে, কে পুরোটা শুনেছে, কেউ আদৌ শুনেছে কিনা তাই নিয়ে চলতো বিস্তর আলোচনা। একটু বড় হতে রেডিওরটা শোনা শেষ হলে, চলে যেতাম মেজোমার বাড়ি। টিভিতে মহালয়া দেখার জন্যে। গ্রামে তখন দুটো টিভি। একটা ক্লাবে, আর একটা মেজোমাদের। দুটোই সাদা-কালো। ক্লাব একটু দূরে। তাই মেজোমার বাড়ি। ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে একটা ঝামেলা হওয়ায় তাদের টিভিটা বন্ধও ছিলো বহুদ...

গাছও কথা বলে

১ স্টেট ব্যাংকে ঢোকার জন্যে ফুটপাথে লাইন। আমিও দাঁড়িয়ে গেলাম। ফুটপাথের দোকানগুলো তখনো সেজে ওঠেনি। ঝাঁপ খুলে কর্মচারী, মালিক ঘুম চোখে এক এক করে মাল নামিয়ে সাজানোর চেষ্টা করছে। আমি যে দোকানটার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম সেখানে মোবাইলের ব্যাক কভার, হেডফোন, স্পিকার এইসব বিক্রি হয়। এরমধ্যেই মালিক এসে তার কর্মচারীকে খুব ধমক দিতে শুরু করলেন। “কার থেকে কটা মাল এনেছিস মনে নেই? তোকে কতবার বলেছি লিখে রাখবি। কানে ঢোকে না,না? তুই তো জানিস যেগুলো বিক্রি হয় না তাকে সেগুলো ফেরত দিতে হবে। এখন কোনো মালের লেবেল নেই, কার মাল জানা নেই কি করে ফেরত দেবো?”   কর্মচারী অল্প বয়সী একটা ছেলে। মাথার সামনে বড় বড় লটকা চুল। চোখে এসে পড়ছে, আর মেয়েদের মতো ঘাড় ঝাঁকিয়ে চোখ থেকে চুল সরিয়ে দিচ্ছে। চুলে রঙ করা। খুব মিষ্টি মিষ্টি করে হেসে মালিককে বললো, “ভিড় ছিলো খুব।” মালিক তো রেগে আগুন - “ভিড় ছিলো মানে? ভিড় ছিলো বলে তুই ভুলভাল করবি? কিচ্ছু লিখে রাখবি না? ভিড় থাক। কিছু কাস্টমার ফিরে যায় যাক, তবুও তুই কাজ গুছিয়ে একটাকে ছেড়ে তবে অন্য কাস্টমার ধরবি। আর শোন এবার থেকে সব লিখে রাখবি। কার থেকে কটা মাল আনলি, কটা বিক্রি হলো...

দুঃস্বপ্ন

ছোটবেলায় স্কুল থেকে ফেরার সময় ফকির পাড়া দিয়ে ফিরতাম। খুব জল তেষ্টা পেলে নৌসেরদাদের বাড়িতে গিয়ে বলতাম - বৌদি জল দাও। বৌদি জলের সঙ্গে বাতাসাও দিতো। সেই বাতাসাগুলো ওদের মসজিদের মানত মেটানোর বাতাসা। মানতটা হিন্দু-মুসলিম সবাই করতে পারে। মসজিদটাকে বলাও হয় শাহ-কামালের মন্দির। নৌসেরদার দিদিকে আমরা আশলে-দি বলি। সে আমাদের বাড়িতে প্রায় প্রতিদিনই বেড়াতে আসতো। তখনকার দিনে গ্রামের যারা হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে যেতো না, বাড়িতে বাচ্চা প্রসব করানোর কাজটা আশলেদিই করতো। আশলেদির এক বৌমার মেয়ে নেই। সেই বৌমা আমাকে বলতো - তুই আমার মেয়ে। আমাকে মা বলে ডাকবি। মেয়ে বলে তাদের প্রতিটা পরবের সিমাই আর নানান খাবার আমার জন্যে রেখে দিতো। আমি স্কুল থেকে ফেরার পথে খেয়ে আসতাম। স্কুলে আমার প্রিয় বন্ধু ছিলো হাসিবা। কতবার তাদের বাড়ি যেতাম হিসেব দিতে পারবো না। বিশেষ করে পেয়ারার দিনগুলোতে। তাদের বাড়ির উঠোন জুড়ে পেয়ারা গাছ। কোন গাছের পেয়ারা কেমন সেটা আমি দীপিকা, দোলা, রিক্তাদি সবাই জানতাম। তাদের কলকাতায় বেকারি বিস্কুটের কারখানা ছিলো। কলকাতা থেকে আনা অনেক জিনিসও খেতে পেতাম হাসিবার থেকে। সাকিনা, হাসিনা, আকতারাও যেতে ...

বাঙালি

আগ্রা, অনেক বছর আগে “তুম কেয়া বাংলা পড়নে জানতে হো?”   “বলনে ভি জানতা হুঁ।”   “আচ্ছা! কাঁহা শিখা?”   “কলকাত্তা। আপনি হিন্দি চালিয়ে যেতে পারেন, বেশ লাগছে।”   “দূর মশাই! আমি গড়পারের লোক, হিন্দি কি কেউ সাধে বলে নাকি?” কলকাতায় সবাই বাংলা বলি। কেউ কারো সঙ্গে গায়ে পড়ে কথা বলি না। কিন্তু বাংলার বাইরে গেলে বাংলা ভাষার কদর অনেকটা বেড়ে যায়। এক বাঙালি অন্য বাঙালিকে দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। ১। রোম, ২০০৫ “আপনারে কেমন সেনা সেনা লাগসে।” হকচকিয়ে মুখের দিকে তাকিয়ে বললাম, “না, আমি তো আপনাকে চিনি না।” “না, আমার কেমন সেনা সেনা লাগসে। আমি আপনারে কোথায় য্যানো দেখসি।” “না, কোথাও দেখেননি। আপনার কোথাও একটা ভুল হচ্ছে।” “না, আপনারে দেখসি।” খুব সিরিয়াস হয়ে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলাম -- “শুনুন আসলে আপনার গায়ের রঙ, আমার গায়ের রঙের সঙ্গে কোনো তফাৎ নেই তো, তাই আপনার মনে হচ্ছে আপনি আমাকে কোথাও দেখেছেন। বিদেশ বিভূঁইতে একটু একইরকম দেখতে লোক মনে হলে আপনার এমন চেনা চেনা লাগতে পারে, কিন্তু আমি আপনার চেনা নই।” সুদূর রোমে। আমি একা একটা জায়গায় লাগেজটা নিয়ে দাঁড়িয়ে। বর গে...