Posts

Showing posts with the label ছবি

পাহাড়

Image
ছোটবেলায় শুনতাম, জল দিয়ে আঁক কাটতে নেই, দেনা হবে। চৌকাঠে বসতে নেই, বালিশে বসতে নেই। কারণগুলো সবাই জানে। বাবা মাঝে মাঝে সত্যিটা বুঝিয়ে দিতো, বুঝতাম। কিন্তু অনেক কুসংস্কারকে পাত্তা না দিলেও একটাকে খুব দিতাম। নিজের ইচ্ছে করতো বলে। বড়মা বলতো, “পা ছড়িয়ে বসে ভাত খেলে অনেকদূরে বিয়ে হয়। বাসে করে অনেকদূর যেতে হবে, বুঝবি কেমন কষ্ট হয়।” “ঘনঘন আসতে পারবি না, আমরাও তোর বাড়ি যেতে পারবো না, দেখবি খুব কষ্ট পাবি।” আমি তো বাসে করে দূরেই যেতে ভালোবাসি, তাই রোজ পা ছড়িয়ে ভাত খেতাম। অনেকেই বকতো। কিন্তু আমি ওই দূরে যাবার লোভে কোনোদিন পা ছড়িয়ে বসে খেতে ভুলতাম না। ক্লাস এইট পরীক্ষা দিয়ে একটু দূরে ঘুরতে যাওয়া। তাও খুব দূর নয়। রাতে বাস ছেড়ে ভোরে পৌঁছনো। অযোধ্যা পাহাড়। প্রথম পাহাড় দেখে মুগ্ধ হওয়া। চারপাশ পাহাড় দিয়ে ঘেরা এমন একটা ফাঁকা মাঠে গিয়ে বাস থামলো। ওখানেই দুপুরের খাওয়ার জন্যে রান্না, মাটিতে বসে লাইন দিয়ে খাওয়া। সকালে টিফিন খাওয়ার পর আমরা সবাই হেঁটে হেঁটে জায়গাটা দেখা শুরু করেছিলাম। একটা পাহাড় থেকে ঝর্ণা। সেই ঝর্ণার জলের উৎস খুঁজতে পাহাড়ের বহুদূর অব্দি উঠেছিলাম। কিন্তু উৎস খুঁজে পাইনি। জানি পাওয়া য...

কুলকুলতির ব্রত

Image
মেয়েদের ছোটবেলা মানেই মা বা ঠাকুমার শাড়ি। মাথায় গামছা বা ওড়না দিয়ে লম্বা চুল কিংবা খোঁপা। পুতুলের মা সাজা কিংবা নাচের দিদিমণি। অথবা স্কুলের। আমরাও ছিলাম কয়েকজন। মা, ছোটঠাকুমা বা মেজমার শাড়ি পরে, গামছা দিয়ে চুলের বেণি করে দিব্যি নাচতাম, পুতুল খেলতাম, রেলিংগুলোকে ছাত্র সাজিয়ে বিজ্ঞের মতো পড়া কম-বেশি সবাই বুঝিয়েছি। আমার ঠাকুমা থান পরতো তাই তার শাড়ি পরতে দিতো না। এই শাড়ি পরাটাই ছিলো খুব লোভনীয় ব্যাপার। তার জন্যে অনেকেই সন্ধ্যে দিতে, কুলকুলতির ব্রত করতে ভালোবাসতো। আজকাল শাড়িরা বন্দী ন্যাপথলিনে। ব্রতেরাও বিলীন। শাড়ি পরে পরিপাটি হয়ে সন্ধ্যে দেওয়া, কুলকুলতি করা বেশ পছন্দের কাজ ছিলো। কার্তিক মাসের পয়লা থেকে কুলকুলতির পুজো করতে হতো। টানা একমাস পুজো করে মাসের শেষ দিনে ভোরবেলা জলে ভাসিয়ে চান করতে হতো। একবার করলে পরপর তিনবছর বা পাঁচবছর করতে হতো। পুজোর জন্যে রোজ তিনটে করে প্রদীপ, ফুল, কুলপাতা, দূর্বা লাগতো। একমাস রোজ বিকেলে ঘুরে ঘুরে সবার বাগান  ফুল তোলাটা তখন একটা জরুরি কাজ। এই পুজোয় কুলপাতা অবশ্যই দিতে হতো। তাই বাড়ির কাছের কুলগাছ বলতে তখন চৌধুরীদের কুলগাছ। কেউ কেউ কুলপাতা তুলতে গ...